চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গায় জোরপূর্বক এক কৃষকের দশটি গাছ কেটে নিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চকঝগড়ু গ্রামের মৃত মঞ্জুর বিশ্বাসের ছেলে মাসুদ রানার বসতবাড়িতে থাকা এসব গাছ কাটা হয়। মেহগনি,পিঠালি,ওড়ল,এছাও আমের দশটি ১৫-৩০ বছর বয়সী এসব গাছ কাটেন ইউপি চেয়ারম্যান আতাউল হক কমল ও ইউপি সদস্য জহরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী কৃষক ও তার পরিবার,স্থানীয় বাসিন্দা, থানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কৃষক মাসুদ রানার কয়েকজন প্রতিবেশির যোগসাজশে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নতুন রাস্তা তৈরির নাম করে জোরপূর্বক এসব গাছ কাটা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন,বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমল ও ইউপি সদস্য জহরুল ইসলাম। এনিয়ে সদর মডেল থানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক মাসুদ রানা। তবে বিচারের দাবিতে মাসুদ রানার পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, আমার বসতবাড়ি থাকা দশটি গাছ কাটতে বাধা দিতে গেলে আমাকে নানারকম ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়। এসময় গালিগালাজ করতে নিষেধ করে গাছ কাটতে দিবোনা বলে প্রতিবাদ করা মাত্রই চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে থাকা হাসুয়া, দা, লোহার সাবল ও দেশীয় অস্ত্রসহ আমার উপর আক্রমণ করতে আসলে আমি পালিয়ে রক্ষা পায়।
তিনি আরও বলেন,গাছ কাটার পর আমার বাড়ি ও জানালার কিছু অংশ ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। বাড়ির দরজা,জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এসময় গাছ কাটায় বাধা দিলে ও প্রতিবাদ জানালে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাজ হলো জনগণের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমল ও ইউপি সদস্য জহরুল ইসলাম যা করেছে তা অন্যায়। একজন কৃষকের বসতবাড়িতে থাকা মাঝারি সাইজের এসব গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শী তাজেমুল ইসলাম বলেন, অন্য মানুষের সুবিধা করে দিতেই জোরপূর্বক বাড়ি ভাঙচুর ও গাছ কাটা হয়েছে। একজকে সুবিধা করে দিতে আরেকজনের এত বড় ক্ষতি আমাদের কখনই কাম্য নয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছে এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানায়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আতাউল হক কমলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এবিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন বলে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। ও মেম্বার দোশ এড়াতে চেয়ারম্যানকে দায়ী করেন বলে বক্তব্য দেন সরাসরি।
বাড়ির পাশের ফাঁকা গাছগুলো নদীর ধারে হওয়ায় কয়েকটি গাছ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানে না তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন জানান,এবিষয়ে আমাদেরকে কোনকিছু অবহিত করা হয়নি। গাছ কাটার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছমিনা খাতুনকে অবহিত করেন। এসময় তিনি তাৎক্ষনিক সদর মডেল থানার ওসি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেন।
এবিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিন্টু রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।